হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী economic - যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও অন্যান্য ঘটনাবলি - Part 18 - islamic history pdf bangla

 হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী বই

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী economic - যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও অন্যান্য ঘটনাবলি

যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও অন্যান্য ঘটনাবলি

তাখাইয়্যর আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে পার্থিব আরাম-আয়েশের জন্য প্রেরণ করেন নাই। তাঁকে পেরণ করিয়াছেন শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকার ও দুনিয়াবাসীর জন্য আদর্শরূপে। তাই নিজের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য বা মহিষীগণের ভােগ-বিলাসের ব্যবস্থা করা তাঁর চরিত্রের পরিপন্থী ছিল ।

ঈলার ঘটনায় উল্লেখ রয়েছে

ঈলার ঘটনায় উল্লেখ রয়েছে যে, মহিষীগণ তাদের দাবী আদায়ের ব্যাপারে অবিচল থাকায় আল্লাহ পাক তাঁর পিওয় রাসূলকে ঐশী বাণী দ্বারা জানিয়ে দিলেন। - “হে নবী! আপনি আপনার মহিষীগণকে বলে দিন, যদি তােমরা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও চাকচিক্য কামনা কর, তবে আইস আমি তােমাগিকে পরিত্যা করি। আর যদি আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল এবং পরকাল কামনা কর তবে আল্লাহ তােমাদের মধ্যকার নেককার রমণীদের জন্য মহা পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।

এ আয়াত অবতীর্ণ হয়াের পর নবী করীম (সাঃ)

প্রথমেই হযরত আয়েশার ঘরে আসলেন ও তাঁকে বললেন-“আয়েশা! আমি তােমাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করতেছি। তােমার মাতা-পিতার সহিত পরামর্শ করে উত্তর দিও।” অতঃপর তিনি আল্লাহ প্রত্যাদেশ তাঁকে পড়ে শুনাইলেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতা-পিতার সহিত পরামর্শের কিছুই নাই । আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলই তার একমাত্র কাম্য।” তাঁর এই উত্তর শুনে নবী করীম (সাঃ)-এর পবিত্র চেহারায় খুশীর আভা ফুটে উঠল।

হযরত আয়েশা

হযরত আয়েশা আরও বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সাঃ)! আমার এ অভিমত আযওয়াজে মুতাহহারাতের কাছে আমা করে প্রকাশ করবেন না। এই আবেদন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে তেমন পছন্দনীয় হল না। তাই তিনি এরশাদ করলেন, ‘আয়েশা! আমি দুনিয়ার বুকে মানব জাতির শিক্ষররূপে আগন। করিয়াছে-অত্যাচারী হিসাবে নহে। অতঃপর তিনি অপরাপর সকল উম্মুল মু'মিনীনকে প্রদত্ত এই অধিকার সম্বন্ধে তাদের মতামত যাচাই করলেন। কিন্তু

সকলেই হযরত আয়েশার অনুরূপ মত প্রকাশ করলেন। নবী করীম (সাঃ)-ও
স্বেচ্ছায় কোন মহিষীকে পরিত্যাগ করলেন না। কেননা, আল্লাহতায়ালা তাঁকে
দুনিয়ায় করুণা ও শান্তিস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। যার অন্তর স্নেহ ও দয়ায় পরিপূর্ণ
তার পক্ষে এমন কঠেপার কাজ করা সম্ভব নহে।

উম্মুল মু'মিনীগণের প্রতি হুযুর

(সাঃ)-এর এই কোমল আচরণ দেখে হযরত আয়েশা মন্তব্য করলেন- ইয়া
রাসূলাল্লাহ (সাঃ)! আপনাকে আল্লাহ যে অধিকার দিয়েছেন যদি আমাকে এরূপ
অধিকার দেয়া হত তবে আমি একজন ব্যতীত অপর কারও সহিস কোন সম্পর্ক
রাখতাম না।

বৈধব্য নারী জনমের দুঃখময় পরিণতি বৈধব্য লাভ। বিশেষ করে অল্প বয়সে বিধবা
হওয়া যে কত মর্মান্তি তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। বৈধব্য অবস্থায় নারীর
বেঁচে থাকা মৃত্যুরই নামান্তর। হযরত আয়েশা (রাঃ) মাত্র আঠার বছর বয়সে
এই নিদারুণ বৈধন্যপ্রাপ্ত হন এবং বাকী ঘীর্ঘ চল্লিশ বছর তিনি এই
বৈধব্যাবস্থায়ই কাটিয়েছিলেন।

এগার হিজরী সালের সফর

এগার হিজরী সালের সফর মাসের শেষ দিকে একদা হুযুর (সাঃ) আয়েশার
ঘরে ঢুকে দেখেন তিনি মাথা ব্যাথায় অস্থির। নবী করীম (সাঃ) তাঁকে বললেন আয়েশা! তুমি যদি আমার জীবতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে তবে তােমাকে
কাফন-দাফন করতাম। আয়েশা (রাঃ) একটু রহস্য করে বললেন-হাঁ, তা হলে
আপনি অপর মহিলাকে বিবাহ কররে এখানে এনে উঠাতে পারতেন। তাঁর এই
উক্তিতে হুযুর (সাঃ) সহাস্যে বললেন, আয়েশা! তােমার এই ধারণা অমূলক।

হযরত আয়েশার মাথা ব্যাথা লাঘব করবার জন্য হুযুর (সাঃ) স্বীয় হস্ত
মাথায় রেখে বললেন-“হায় আমার মাথা।” মনি তার দারুণ মাথা ব্যথা শুরু
হয়ে গেল এবং হযরত আয়েশা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন। ক্রমে তার মাথা ব্যথা
বাড়তে লাগল। শেষ পর্যন্ত হযরত মায়মুনার গৃহে যেয়ে তাকে শয্যা গ্রহণ করতে
হল। এই অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি ন্যায়নীতির খেলাপ করলেন না। পালা অনুযায়ী।

উম্মুল মু'মিনীনদের ঘরে যাতায়াত করতেন

উম্মুল মু'মিনীনদের ঘরে যাতায়াত করতেন। যে গৃহে যেতেন সেখানেই জিজ্ঞাসা
করতেন-আগামীকাল আমি কোথায় অবস্থান করব? নবী করীম (সাঃ)-এর এই
কথা দ্বারা কি করতেন কারও বুঝতে বাকী রইল না। তাই সকলে মিলেয় হযরত
আয়েশার ঘরে তার থাকার ব্যবস্থা করলেন। নবী করীম (সাঃ) হযরত

আয়েশাকে অধিক ভালবাসিতেন, এ জন্য তিনি তার গৃহের প্রতি উন্মুখ ছিলেন তা নহে; বরং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল, তাঁর অন্তিমকালীন বাণী ও কার্যাকলাপ
নয়ার বুকে সংরক্ষিত করবার ব্যবস্থা করা। পূর্বেই বর্ণিহ হয়েছে যে, হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন তিশয় বুদ্ধিমতি, গুণসম্পন্না ও স্মৃতিশক্তির অধিকারিণী। তাই দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর তিরােধন মুহুর্তের যাবতীয় আলাপ-আলােচনা ও ঘটনা প্রবাহ হযরত আয়েশা (রাঃ) হতেই আমরা প্রাপ্ত হয়েছে।

আর এটাই ছিল তার গৃহে নবী করীম (সাঃ)-এর আগমনের একমাত্র উদ্দেশ্য
রােগাক্রান্ত হওয়ার পর নবী করীম (সাঃ) খুব দুর্বল হয়ে পড়লেন। এমনকি মসজিদে গিয়ে ইমামতি করবার শক্তিও তাঁর রইল না। তার শারীরিক অবস্থার। এরূপ অবনতি দেখে উম্মুল মু'মিনীনগণ যুগপৎ তপার সেবা-শুশ্রুভায় আত্মনিয়ােগ করলেন।

রােগব্যাধি হলে যে সকল দোয়া-কালাম পাঠ করে নবী করীম (সাঃ)। মানুষকে ফুক দিতেন হযরত আয়েশা (রাঃ)-ও ঐ সকল দোয়া-কালাম পাঠে নবী করীম (সাঃ)-কে ফুক দিতে লাগলেন। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের কোন উন্নতিই হল।

ফজরের সময় সাহাবিগণ মসজিদে জমায়েত হলেন

ফজরের সময় সাহাবিগণ মসজিদে জমায়েত হলেন। হুযুর (সাঃ) কয়েকবার গাত্রোত্থানের চেষ্টা করলেন, কিন্তু তার সাধ্য হল না। নবীজী মসজিদে আসতে অসমর্থ দেখে সাহাবিগণের মধ্যে কান্নার রােল পড়ে গেল। এদিকে তিনি আদেশ করলেন, “আবুবকরকে বল যেন লােকদের নামায পড়িয়ে দেয়।” তাঁর এ আদেশ। শ্রবণ করে হযরত আয়েশা (রাঃ) কেঁদে ফেললেন। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর স্থানে দাঁড়িয়ে অপর কেহ নামায পড়াক তা তিনি সহ্য করতে পারলেন না।

অতএব তিনি হুযুর সমীপে আরজ করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! আবুবকর (রাঃ) অতি কোমল স্ববাবের লােক। তিনি আপনার সান্নিধ্যের অবাবে কেঁদে ফেলবেন। অপর কাকেও এ কাজের জন্য আদেশ করুন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ) পুনঃ আদেশ করলেন, আবুবকরকে নামায পড়াতে বল। এবার নিরুপায় হয়ে থরত আয়েশা (রাঃ) বিবি হাফসাকে তার সমর্থনে হুযুর (সাঃ)-কে অনুরােধ মতে বললেন।

তিনি তাই করলেন। তাদের এই কথায় নবী করীম (সাঃ) । "ন্বিত হয়ে বললেন, “তােমরা সেই নারী সম্প্রদায় যে হযরত ইউসুফ মাঃ)-কে নামায আরম্ভ করলে নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করলেন, দরওয়াজার। " সরিয়ে দাও। আল্লাহর প্রিয় নবী তাঁর উম্মতগণের নিবিষ্ট মনে সৃষ্টিকর্তার ।

ইন্তেকালের পর তার উম্মতগণ এইভাবেই

আরাধনার তন্ময়তার চোখ ভরিয় দেখলেন। দেখতে দেখতে তিনি আলা শােকর আদায় করলেন যে, তার ইন্তেকালের পর তার ২ মহাপ্রভুর ইবাদতে নিমগ্ন থাকবে, ইহাই তাঁর পরম তৃপ্তি ।

হুযুর (সাঃ) সুস্থ থাকাকালে হযরত আয়েশার নিকট কয়েকটি ল গচ্ছিত রেখেছিলেন। হঠাৎ তা স্মরণ হলে তিনি এরশাদ করলেন আশরফী এনে দরিদ্রদের মধ্যে দান করে দাও। ঘরে স্বর্ণমুদ্রা রেখে মুহাম্মদ কিভাবে আল্লাহর সহিত মিলিত হবে? হযরত আয়েশা তৎক্ষণাৎ আদেশ পালন করলেন।।

হুযুর (সাঃ)-এর অন্তিম সময় অত্যাসন্ন

হুযুর (সাঃ)-এর অন্তিম সময় অত্যাসন্ন। এসময় তিনি হযরত আয়েশার বুকে ঠেস দিয়ে বসেছিলেন। এমন সময় আয়েশার ভই আবদুর রহমান। মেছওয়াকসহ ঘরে প্রবেশ করলেন। মেছওয়াক দেখিয়ে হুযুর উহার প্রতি তাকিয়ে। রইলেন। হযরত আয়েশা বুঝলেন, হুযুর (সাঃ) মেছওয়াক করতে চাইতেছেন।

তিনি ভ্রাতার নিকট হতে মেছওয়াক নিয়ে স্বীয় দাত দ্বারা নরম করতঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাতে দিলেন। মেছওয়াক পেয়ে তিনি একজন সুস্থ লােকের ন্যায়। মেছওয়াক করতে লাগলেন। হযরত আয়েশা গর্ব করে বলতেন, নবী-মহিষীগণের। মধ্যে কেবল আমার মুখের চর্বিত মেছওয়াক দ্বারাই হুযুর (সাঃ) দাঁতন করেছিলেন।


রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর রােগমুক্তির জন্য একবার তার হাতের উপর হুযুরের হাত মুবারক রেখে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছিলেন। হুযুর হাত মুবারক সরিয়ে নিয়ে বলে উঠেন, ‘আল্লাহ-ই সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু।
তাঁর এই উকি তাৎপর্য উপলব্ধি করে হযরত আয়েশা চমকে উঠেন। তাঁর বুঝতে বাকী রহিল না যে, | হুযুর (সাঃ) আর বেশি সময় নশ্বর দুনিয়ায় থাকবেন না।


হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহর রােগ যন্ত্রণা দেখিয়াে। বললাম, আপনার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? হুযুর (সাঃ) বলেন, যেখানে অধিক কষ্ট। সেখানে আরামের পরিমাণও তদ্রুপ। তিনি আরও বলেন, হুযুর (সাঃ) অনেক সময় সুস্থ অবস্থায় বলতেন, আল্লাহ নবীগণকে মৃত্যুর সময় এই অধিকার প্রদান।

করেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে মৃত্যুবরণ অথবা বেঁচে থাকার যে কোন একটা। গ্রহণ করতে পারেন। তার মুখে আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধু, উক্তিটি শুনে আমি সুঝলাম যে, তিনি আর আমাদের মধ্যে থাকবেন না। পরম বন্ধু আল্লাহর নিকট শীঘ্রই চলে যাবেন।।

ভারকে হযরত আয়েশা আপন বক্ষের সাথে ঠেস দেয়া অবস্থায়ি হঠাৎ অধিক ভার অনুভব করলেন। তাকে ধরে রাখা তার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ল। তিনি তার চোখে দিকে চেয়ে দেখলেন, চক্ষু স্থির। তখন তাকে বক্ষ হতে সরিয়ে বালিশে শােওয়াইয়া দিয়ে ক্রন্দক করতে লাগলেন। হুযুর (সাঃ) হযরত আয়েশার ঘরের যেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়াছিলেন সেখানে তিনদিন পর তাকে সমাহিত করা হয়।

হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন পরম সৌভাগ্যবতী

হযরত আয়েশা (রাঃ) ছিলেন পরম সৌভাগ্যবতী। কেননা তাঁর ক্রোড়েই আল্লাহর নবী (সাঃ) ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর মাজার শরীফ। তার ঘরেই স্থাপিত হয়েছে। একদা হযরত আয়েশা স্বপ্নে দেখলেন, তাঁর ঘরে। তিনটি চন্দ্র এসে পড়েছে। এই স্বপ্নের তাবীর পিতার হযরত আবুবকরের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। হুযুরের ইন্তেকালের পর তিনি হযরত আয়েশাকে বলনেল, তিনিটি চাদের মধ্যে ইহা সর্বশ্রেষ্ঠ।

বলা বাহুল্য যে, পরবর্তী সময়ে হযরত আয়েশার ঘরেই আবুবকর ও ওমর (রাঃ) সমাহিত হন। যার ফলে তর স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়।

হুযুরের ইন্তেকালের পর

হুযুরের ইন্তেকালের পর তিনি মাজারের পাশেই কালাতিপাত করতেন। এমন কি তার পিতা আবুবকরকে সমাহিত করার পরও তিনি সেখানে পর্দাহীনভাবে যাতায়াত করতেন এবং সেখানেই রাতি কাটাতেন। হুযুরকে স্বপ্নে দেখার পর তিনি রাত্রে আর সেখানে শয়ন করতেন না।

হযরত ওমরকে হুযুর (সাঃ)-এর পার্শ্বে দাফন করবার পর হযরত আয়েশা পর্দার সহিত রওজা মােবারকে যাতায়াত করতেন।
শরীয়তের বিধান মতে মৃত বেগানা পুরুসের নিকট পর্দার প্রয়ােজন নাই। তবু হযরত আয়েশা বললেন- এদ্দিন স্বামী ও পিতার নিকট বিনা পর্দায়ই যেতাম, কিন্তু এখন এখানে হযরত ওমর রয়েছেন। পর্দা ব্যতীত সেখানে যেতে আমার লজ্জা হয়।

রাসূলুল্লাহর তিরােধানের পর হযরত আবুবকর (রাঃ)-এর খিলাফত কালে রাসূলে করীম (সাঃ) ইন্তেকাল করলে সর্বসম্মতিক্রমে আবুবকর (রাঃ)। মুসলিম সাম্রাজ্যের খলিফা পদে মনােনীত হন। তিনি খলিফা পদে আসীন হলে উম্মুল মুমিনীনগণ রাসূলুল্লাহর পরিত্যক্ত সম্পত্তি তাঁদের মধ্যে বণ্টন করে দিবার।

জন্য হযরত ওসমানকে দূতরূপে খলিফার নিকট প্রেরণ করতে মনস্থ করেন । হযরত আয়েশা (রাঃ) ইহা জানতে পেরে তাদেরকে রাসূলুল্লাহর বাণী স্মরণ করিয়ে দিলেন। আমার কেহই ওয়ারিস হইব না। আমার পরিত্যক্ত সম্পত্তি আল্লাহর রাহে দান করে দিবে।” এই বাণী শ্রবণ করে তাঁরা তাঁদের সংকল্প ত্যাগ করলেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে ইন্তেকালের সময়

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে ইন্তেকালের সময় পরিবার পরিজনের জন্য কিছুই রেখে যান নাই, তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ এই যে, তার ইন্তেকালের দিন হযরত আয়েশার গরে সান্ধ্যকালীন খাওয়ারও ব্যবস্থা ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আপন ব্যবহারের জন্য। যে কয়েকটি বাগান রেখেছিলেন উহার আয় দ্বারা উম্মুল মু'মিনীনগণের ব্যয়ভার বহন করতেন। পরবর্তীকালে খােলাফায়ে রাশেদীনও সেই পথই অনুসরণ করেন।

আবুবকর (রাঃ) আপন সম্পত্তি

আবুবকর (রাঃ) আপন সম্পত্তি হতে হযরত আয়েশাকে কিছু অংশ দান করেছিলেন, তাঁর ইন্তেকালের সময় উপস্থিত হলে তিনি হযরত আয়েশাকে বললেন- মা আয়েশা! আমি তােমাকে সম্পত্তির যে অংশ দিয়েছি তা কি তুমি তােমার ভাই-বােনদিগকে দান করে দিবে?
কন্যা- অবশ্যই দিব। পিতা- আয়েশা! নবী করীম (সাঃ) কোন দিন ইন্তেকাল করেন? কন্যা- সােমবার। পিতা- আজ কি বার? কন্যা- আজ সােমবার।

পিতা- আমিও আজ তাঁর নিকট চলে যাব! মা! তােমার স্মরণ আছে কি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে কয় টুকরা কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল?
কন্যা- তিন টুকরা সাদা কাপড় দ্বারা ।।
পিতা- আমার এই চাদরখানায় জাফরানের দাগ লাগেছি। ইহা ধৌত করে। ইহা দ্বারাই আমার কাফন দিবে।

কন্যা- বাবা! ইহা যে পুরাতন? পিতা- মা! মৃতের চেয়ে জীবতদের নূতন কাপড়ের প্রয়ােজন অধিক। পিতা ও কন্যার এই কথােককথনের দিন রাতেই আবুবকর (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। তাকে হুযুরের পার্শ্বে কিছুটা পিছরেন দিকে দাফন করা হয়। আজ হযরত আয়েশা স্বামীহারা, বিধবার সাথে সাথে পিতৃহারা একজন ইয়াতীমও হলেন।।


আমাদের কিছু কথা

বাংলায় লিখতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে আমাদেরকে ইমেইল করে জানিয়ে দিবেন এবং ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এবং যদি আপনাদের কোন ধরনের সাজেশন থাকে তাহলে অবশ্য আমাদেরকে ইমেইল করে জানিয়ে দিবেন

আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ

আমাদের এই পোস্টে ভিজিট করার জন্য

এবং যদি ভালো লাগে এই পোস্টটি তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

Post a Comment

0 Comments