হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী - জঙ্গে জামাল উষ্ট্রের যুদ্ধ - Part 22- Islamic Story Bangla

 হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী বই

হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) জীবনী, জঙ্গে জামাল উষ্ট্রের যুদ্ধ

জঙ্গে জামাল (উষ্ট্রের যুদ্ধ)

মুসলিম সাম্রাজ্যের এক নিদারুণ মুহূর্তে হযরত আলী খেলাফতের ভার গ্রহণ করলেন। খেলাফত লাভ করে তিনি চতুর্দিক হতে বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় পতিত হলেন। হযরত তালহা ও জুবাইর প্রথমেই তার বিরুদ্ধাচারণ করে মদীনা হতে বের হলেন। মিসরের গভর্নর আবী শুরাকে হত্যা করে তদস্থলে মুহাম্মদ ইবনে আবী হুযাইফা নিজকে স্বাধীন বলে ঘােষণা করলেন। আমীর মাবিয়া শাস দেশে পূর্ব হতেই স্বাধীনতা ঘােষণা করে মুসলিম সাম্রাজ্য আপন করতলে আনার স্বপ্ন দেখতেছিলেন।

হযরত আলী কর্তৃক নিযুক্ত বসরার গভর্নর ওসমান ইবনে হানিফও তার কাজকর্মের মাধ্যমে পরােক্ষভাবে বিরােধিতা করতেছিলেন। চারদিকে ধুমায়িত বহ্নি সত্ত্বেও হযরত আলী (রাঃ) মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তােলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালালেন। তাই তিনি কর্তব্য স্থির করলেন, উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশার সহিত পরামর্শ প্রয়ােজন। এই উদ্দেশ্যে একান্ত বিশ্বস্ত সাতশত সৈন্য নিয়ে তিনি মদীনা হতে বসরায় রওয়ান হলেন।

পথিমধ্যে কুফা হতে সাত হাজার সৈন্য তার সাথে মিলিত হল। বসরা গিয়ে পৌছা পর্যন্ত তাঁর দলে সৈন্যসংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় বিশ হাজার। তিনি যে উদ্দেশ্যে একান্ত ভক্ত, নিঃস্বার্থ অনুগামীদের নিয়ে বসরার দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন পথে অপরাপর সৈন্যগণ মিলিত হয়ে তাঁর সেই মহৎ ইচ্ছাকে বিনষ্ট করে দিল।

তাদের উদ্দেশ্য হযরত আলীকে সাহায্য করা নয়; বরং শায়েস্তা করা। এদিকে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সৈন্য সংখ্যাও প্রায় ত্রিশ হাজার। হযরত আলী (রাঃ) সদলবলে বসরা। আক্রমণ করতেছেন জেনে তারাও অস্ত্র-শস্তও নিয়ে ময়দানে তাঁবু গাড়লেন। দুই পক্ষই নিজেকে সঠিক পথে রয়েছে ভেবে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হল।

তারা একটি কথা ভেবেই কেবল মনের জ্বালায় দগ্ধ হচ্ছিলেন তা হল, যে তলােয়ার এতদিন শত্রু নিধনে ব্যবহৃত হত আজ সেই তীক্ষন্ন অসি আপন ভাইয়ের গর্দান নিতে প্রস্তুত। কুফার অনেক দলপতি বসরার আপন আত্মীয়-স্বজনদের যুদ্ধ হতে বিরত থাকবার জন্য অনুরােধ করল। কিন্তু তারা উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশাকে একা ফেলে আসতে কোন মতেই সম্মত হল না।

তবে উভয় পক্ষ এ আশাই পােষণ করেছিল। যে, হযরত একটা মীমাংসা হবে, অবস্থা চরম আকার ধারণ করবে না। তাই এক গােত্রের সর্দার হযরত
আলী (রাঃ)-এর নিকট সন্ধির প্রস্তাব করলেন। তিনি পূর্ব হতেই এই ধরনের ব্যবস্থার জন্য উন্মুখ ছিলেন। এবার সর্দার হযরত আয়েশার নিকট যুদ্ধের ব্যাপারে তাঁর মতামত জানতে চাইলেন। তিনি উত্তরে জানালেন, হযরত ওসমান। (রাঃ)-এর হত্যাকারীদের নিকট হতে কেছাছ আদায় এবং মুসলমানদের সংশােধান করাই আমার লক্ষ্য।

সর্দার পুনঃ বললেন, “উম্মুল মুমিনীন! এই। বিষয়ে একটু চিন্তার প্রয়ােজন রয়েছে যে, পাচশত লােককে শাস্তি দেয়ার জন্য পাঁচ হাজার খতম হয়েছে, এই পা হাজার লােকের জন্য যে কত লােককে প্রাণ। দিতে হবে তা বলা ভাল। আপনি কি এটাকেই সংশােধন বলে দাবী করতেছেন।

সর্দারের কথায় উপস্থিত লােকজন অভিভূত হয়ে পড়ে

হযরত আলী (রাঃ)-এর দলে চরমপন্থী সাবায়ী সম্প্রদায়ের বহু লােক ছিল। সন্ধি তারা মােটেই পছন্দ করতে পারল না। কারণ সন্ধি স্থাপিত হলে প্রথমে তাদিগকে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে। উভয় পক্ষ রাতের বেলায় যখন গুমে বিভাের তখন এই চরমপন্থীদল রাতের অন্ধকারে হযরত আয়েশার সৈন্য শিবির অতর্কিত আক্রমণ করল এবং অগ্নিসংযােগ করল।

হযরত আলী (রাঃ) তাদের যুদ্ধ না করবার জন্য বার বার আহ্বান করলেন, কিন্তু তার কথায় কেহ কর্ণপাত করল না। অনেকেই ভেবেছিল- বিপক্ষ দল বিশ্বাসঘাতকতা করে সন্ধি ভঙ্গ করেছে। ফলে রাতের অন্ধকারে এলােপাথাড়ি যুদ্ধ চলতে লাগল। সকালে হযরত আয়েশা (রাঃ) এই দুঃখজনক সংবাদ শুনতে পেয়ে বিশেষভাবে মর্মাহত হলেন। বসরার কাজ কা'ব ইবনে সূর এসে হযরত আয়েশাকে অনুরােধ করলেন যুদ্ধ ময়দানে যাবার জন্য।

কারণ তাকে দেখলে হযরত উভয় পক্ষই যুদ্ধ বন্ধ করবে। তিনি এই পরামর্শ অনুযায়ী উটের উপর লৌহ নির্মিত হাওদায় উপবেশ করে যুদ্ধ-ময়দানে গেলেন। সেখানে পৌছে তিনি হযরত তালহা ও হযরত জুবাইরকে ডেকে পাঠালেন। সকলেই ঘােড়ার উপর উপবিষ্ট। হযরত আলী (রাঃ) জুবাইরেক বললে, “জুবাইর! তােমার কি স্মরণ নাই যে, হযরত নবী করীম। (সাঃ) বলেছিলেন, জুবাইর! তুমি অনর্থকভাবে আলীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে।” হযরত জুবাইর উত্তর দিলেন, অবশ্যই স্মরণ আছে।

এ কথা বলে হযরত জুবাইর (রাঃ) কালবিলম্ব না করে মদীনা রওয়ান হলেন। ইবনে জারমুখ। নামক জনৈক সাবায়ী হযরত জুবাইরকে অনুসরণ করল। পথিমধ্যে হযরত জুবাইর (রাঃ) আসরের নামায পড়বার সময় এই দুরাচার তার শিরচ্ছেদ করল।

সব কর্তিত শির নিয়ে ইবনে জারমুখ হযরত আলীর সম্মুখে উপস্থিত হলে তিনি । কেঁদে ফেললেন এবং আক্ষেপ করে বলে উঠলেন, “এই তারবারি দ্বারা জুবাইর কতবার নবী করীম (সাঃ)-কে শত্রুদের হতে রক্ষা করেছিলেন। হযরত তালহা।
স্ত করলেন, যুদ্ধক্ষেত্র হতে সরিয়ে পড়বেন। মারওয়ান তা বুঝে ফেলল। সে ভাবল, তাহহার জীবিত থাকা তাদের জন্য শুভ হবে না। তাকে দুনিয়ার হতে। সরাতেই হবে। তাই সে বিষ মিশ্রিত বাণ নিক্ষেপে তাকে আহম করল। ক্ষতস্থান হতে রক্তক্ষরণ কোনমতেই বন্ধ হল না।

এই আঘাতেই তিনি শহীদ হলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) কা'ব ইবনে সূরকে কোরআন পাক উত্তোলন করে সন্ধির জন্য আহ্বান করতেই দুষ্টের দল তীর নিক্ষেপ করে তার দেহ জর্জরিত করে। দিল।তুমুল লড়াই চলল।

ময়দানে কাটা হাতের স্তুপ জমে উঠল

ক্রমে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর দল কমজোর হয়ে পড়ল। শত্রুপক্ষ এই চিন্তাও করিয়াছিল, হযরত আয়েশাকে বন্দী করতে হবে। হযরত তালহা ও জুবাইর শহীদ হওয়ার পর শুধু কুফাবাসীই হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর উপর আক্রমণ চালালিয়ে গেল। তাঁকে রক্ষার জন্য মিসরবাসী, বনী আদী এবং বনী যীবাহ সম্প্রদায় ব্যুহ রচনা করে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করলেন। হযরত আয়েশার ডানদিকে বকর বিন। শয়ারেশ, বামদিকে আযদ এবং সামনে নবী নাজিয়াহর বীর সেনাগণ মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

শত্রুপক্ষের একই লক্ষ্য- হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর উট আহত করতে হবে। তার উট বাধতে পারলেই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটবে। তারা হযরত আয়েশা। (রাঃ)-এর উটের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে বনী যিবাহ-এর হাতে প্রাণ দিতে হত। তারা উচ্ছ্বাসপূর্ণ কবিতা আবৃত্তি করে শত্রুপক্ষকে সন্ত্রস্ত করে তুলল। বনী যিবাহ এমন সাহসী ছিল যে, হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর উটের রশি বহনকারী একজন নিহত হলে সাথে সাথেই অপরজন উটের রশি ধরত। এভাবে তাঁদের। সত্তর বীর মৃত্যুবরণ করেছিলেন। এক সময় আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর উটের হাত বাড়াইতেই এক প্রচণ্ড আঘাতে তাঁর হাত ভূপাতিত হল।

হযরত আলীর সৈন্যদল যিবাহ গােত্রের কিছু সংখ্যক লােক ছিল। তারা চিন্তান্বিত হয়ে পড়ল- যদি হযরত আয়েশার উট স্থানান্তরিত করা না যায় তবে। যিবাহ সম্প্রদায়ের একটি লােকও বাঁচবে না। তাই যিবাহ গােত্রের জনৈক ব্যক্তি।

অতি সাবধানে পিছন হতে উটের পায়ে এমন জোরে আগাত হানল যে, সাথে। সাথে উট মাটিতে পড়ে গেল। এই অবস্থা দেখে আম্মার ইবনে ইয়াসার এবং মুহাম্মদ বিন আবুবরক এসে হাওদা ধরে ফেললেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) আহত হয়েছেন কিনা জানবার জন্য মুহাম্মদ বিন আবুবরক হাওদার ভিতরে হাত প্রবেশ । করিবামাত্র হযরত আয়েশা (রাঃ) ধমকের সাথে জিজ্ঞাসা করলেন- “ইহা কোন। মাউনের হাত?” মুহাম্মদ অতি কোমল স্বরে জবাব দিলেন-“আমি আনপার ভাই মুহাম্মদ। আপনি আঘাত পাইয়াছেন কিনা জানতে আগ্রহী।” হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন- “তুমি মুহাম্মদ (প্রশংসনীয়) নহ বরং মুজাল্লাহ (ঘৃণিত)।

সেই মুহূর্তেই হযরত আলী (রাঃ) তাঁর নিকট পৌছিয়ে তাঁর কুশল বার্তা জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি ক্ষীণকণ্ঠে জনাব দিলেন-“ভাল আছি।”
হযরত আয়েশার বিশ্রামের প্রয়ােজন। তাই হযরত আলী (রাঃ) তাঁকে বসরার এক সর্দারের গৃহে নিয়ে যান ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। তাঁর আহত সৈন্যগণও সেই ঘরেই অবস্থান করে। কয়েকদিন অবস্থানে পর মুহাম্মদ বিন আবুবকরের তত্ত্বাবধানে বসরাবাসী সম্ভ্রান্ত চল্লিশজন মহিলাসহ হযরত আয়েশাকে মক্কায় প্রেরণ করেন।

তাঁর সহিত স্বয়ং খলিফাও অনেক দূর পর্যন্ত তাঁর অনুগমন করেন। হযরত হাসান (রাঃ) কয়েক মাইল পথ নানীজির সহগামী হয়েছিলেন। হযরত আয়েশা (রাঃ) মক্কা যাত্রার প্রাক্কালে উপস্থিত জনতার প্রতি একটি। সংক্ষিপ্ত ভাষণ দান করেন। তিনি বলেন যে, আলীর সহিত তাঁর কোনদিনই কোন বিরােধ ছিল না, এখনও নাই। প্রয়ােজনে মাবিয়ার বিরুদ্ধে তিনি হযরত আলীর। সহিত দামেস্ক যেতেও প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য শুনে হযরত আলী (রাঃ) তাঁর প্রতি। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।

মক্কায় পৌছিয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ) হজ্জব্রত পালন করতঃ মদীনায় চলে যান এবং হুযুর (সাঃ)-এর রওয়া মুবারক যিয়ারত করেন। জীবনের বাকী। দিনগুলাে তিনি রওযা মুবারকের পার্শ্বেই অতিবাহিত করেন।

হযরত আয়েশা (রাঃ) যে উদ্দেশ্য নিয়ে ‘দাওয়াতে এছলাহ’ সম্বন্ধে জনমত সংগ্রহের চেষ্টায় ব্রতী হয়েছিলেন, তিনি তাতে কতটুকু সফল হয়েছেন তাহা ভেবে দেখবার বিষয়। তবে এই বিষয় নিয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ) তার বাকী দিনগুলাে। অতিশয় দুঃখ ও অনুশােচনায় কাটাচ্ছেন। তিনি বলতেন, হায়! যদি আমি এই ঘটনার বিশ বছর পূর্বে মরিতাম । বােখারী শরীফে বর্ণিত আছে যে, মৃত্যুর পূরে।

তিনি অছিয়ম করে যান যে, মৃত্যুর পর যেন তাকে হুযুর (সাঃ)-এর রওয়ার পার্শ্বে। সমাহিত করা না হয়। জান্নাতুল বাকীতেই যেন তাকে দাফন করা হয়। বলা হয়, । ভার (সাঃ)-এর ইন্তেকালের পর তিনি একটি অন্যায় কাজ করেছেন বলে এই অছিয়ত করেন। তিনি যখন কোরআনের এই বাণী- “হে নবী মহিষীগণ! তােমরা নিজ গৃহে স্থিরভাবে অবস্থান কর” পড়তেন তখন তাঁর চক্ষু অশ্রুসজন হয়ে উঠত।

কোন কোন ঐতিহাসিক হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর আক্ষেপ, অনুশােচনা, অনুতাপ, অন্যায় স্বীকার ও হুযুর (সাঃ)-এর রওযার পার্শ্বে দাফন না করা। ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জঙ্গে জামালের ব্যাপারে অভিযুক্ত করেছে।

তবে নিরপেক্ষভাবে নিম্ন বিষয়গুলাে বিচার-বিশ্লেষণ করেল তাকে কোন অবস্থায়ই দোষী করা যায় না। হযরত আলী (রাঃ)-এর সহিত তাঁর এই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পূর্বে বা পরে এই ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটে নাই। মুসলমানদের মধ্যে এছলাহর জন্যই তিনি ময়দানে নামিয়াছেলেন, যুদ্ধ করা তার ইচ্ছা ছিল না।

তবু প্রশ্ন থেকে যায়- হযরত আয়েশা (রাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর সহিত আলাপ আলােচনা না করে কেন দাওয়াতে এছলাহ’ ঘােষণা করলেন?
এর জবাব এই যে, মদীনা হতে বের হয়ে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সমীপে হযরত তালহা ও হযরত জুবাইর মদীনায় যে সকল করুণ কাহিনী ব্যক্ত করেন হযরত আয়েশা (রাঃ) এই প্রবীণ সাহাবীদের বক্তব্যের পর এই ব্যাপারে।

তার সহিত আলাপ আলােচনা করা তিনি প্রয়ােজন মনে করেন নাই। বিশেষ করে তিনি মা হিসেবে সন্তানদের এই চরম মুহূর্তে আলাপ-আলােচনায় সময় নষ্ট করাকে প্রয়ােজন মনে করেন নাই।
কোন কোন ঐতিহাসিক বলেন যে, হযরত আলী (রাঃ)-এর খেলাফত বানচাল এবং প্রতিশােধ গ্রহণের জন্য হযরত আয়েশা (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধে। নেমেছিলেন।

কেননা, তিনি ইফকের ঘটনার পর হতেই হযরত আলীর প্রতি বিরূপ ছিলেন। হযরত ওসমান (রাঃ)-এর হত্যাকাণ্ডকে উপলক্ষ করে তিনি সেই মনােভাব চরিতার্থ করবার একটা সুযােগ পান। ইফকের ঘটনার সময় হুযুর
(সাঃ) হযরত আলী (রাঃ)-এর নিকট পরামর্শ চেয়েছিলেন। আলী বলেছিলেন,আপনি ইচ্ছা করেল তাঁকে পরিত্যাগ করতে পারেন।

ইহাই চিল হযরত আলী (রাঃ)-এর প্রতি তাঁর অসন্তুষ্টির মূল কারণ।
হযরত আলীও হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর পূর্বাপর ঘটনা এবং হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর দাওয়াতে এছলাহ’ উপলক্ষে যে সমস্ত বাষণ দান করেছিলেন। তাতেও কোথাও তাঁর ব্যক্তিগত অসন্তোষের কারণ প্রকাশ পায় নাই। সামরিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ সংঘটিত হলেও তাঁরা ছিলেন নির্দোষ । কারও প্রতিই কেউ আদৌ হিংসা-বিদ্বেষ পােষণ করতেন না বা কোন মনােমালিন্যও তাঁদের। মধ্যে ঘটে নি।।

একদা হযরত আলীর সেনাপতি হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসার ও আশতার নখয়ী হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর সহিত সাক্ষাৎ করেন। হযরত আম্মার (রাঃ)। তাকে মা বলে ভক্তিভরে সম্বােধন করলে তিনি বললেন, “আমি তােমার মা নহি। এবার হযরত আম্মার (রাঃ) বললেন,
‘আপনি আমার মা হওয়া পছন্দ না করলেও আপনি আমার মা।

অতঃপর আশতার নখয়ীকে বললেন, “তুমি আমাকে হত্যা করবার চেষ্টা করেছিলেন। আমাকে হত্যা করলে তােমার মুক্তির কোন পথ থাকত না।” তিনি আরও বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরশাদ করেছিলেন তিনটি কারণ ব্যতীত এক মুমিন অপর মুমিনকে হত্যা করতে পারে না।

১। ইসলাম পরিত্যাগ করলে; 

২। কাউকে হত্যা করলে; 

৩। ব্যাভচার করলে।

এআদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, জঙ্গে জামালে হযরত আয়েশা (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত কোন ক্ষোভ ছিল না। মুসলমানদিগকে সংশােধনের জন্যই তিনি দাওয়াতে এছলাহ’ ঘােষণা করেছিলেন। যুদ্ধ বেঁধেছিল কুচক্রীগণ।


বহু লােকের জীবনাবসানের পর জঙ্গে জামালের পরিসমাপ্তি হয়েছিল। হযরত আয়েশা (রাঃ) এবং হযরত আলীর মধ্যে বিরােধ ছিল না, কিন্তু পরিণামে ইসলাম এবং মুসলিম জাতির জন্য অনেক অকল্যাণ ঘটেছিল। বিশেষ করে। হযরত আমীর মাবিয়া এ সুযােগ হযরত আলী (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যে খড় উত্তোলন করেছিলেন তা তিনি তার খেলাফতকালে আর প্রতিহত করতে পারেন নাই।

হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে একবার জিজ্ঞাসা করা হল, ‘হুযুর (সাঃ)-এর প্রকট কে অধিক প্রিয় ছিলেন?' তিনি বললেন ফাতেমা। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হল, ‘পুরুসের মধ্যে কে ছিলেন? তিনি বললেন, ‘ফাতেমার স্বামী। সে অনেক।

ইবাদত করত

হযরত আলীর শাহাদতের পরও হযরত আয়েশা (রাঃ) দীর্ঘদিন জীবিত। ছিলেন। এই সময়ে তিনি কেবল অনুশােচনাই করতেন।


আমাদের কিছু কথা

বাংলায় লিখতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে তাহলে আমাদেরকে ইমেইল করে জানিয়ে দিবেন এবং ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এবং যদি আপনাদের কোন ধরনের সাজেশন থাকে তাহলে অবশ্য আমাদেরকে ইমেইল করে জানিয়ে দিবেন

আপনাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ

আমাদের এই পোস্টে ভিজিট করার জন্য

এবং যদি ভালো লাগে এই পোস্টটি তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

Post a Comment

1 Comments

Please Don't Send Any Spam Link